মোঃ নাজিম উদ্দিন
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
সবুজের আবরণে পুষ্টির অমৃতভান্ডার এবং ভেষজ গুণে ভরপুর দেশীয় ফল আমলকী। গাজীপুরের কালীগঞ্জে এবার আমলকীর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। ঔষধি ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফল চাষের মাধ্যমে কালীগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করা যাচ্ছে। শীতের আগেই এ অঞ্চলের গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে আমলকীর পসরা সেজে বসেছে। ভেষজ ও ঔষধি গুণের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ফলটির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে।
উপজেলার স্থানীয় হাট-বাজারে বর্তমানে কাঁচা আমলকীর পাশাপাশি শুকনো আমলকী, আচার, মোরব্বা ও গুঁড়া বা পাউডার আকারেও বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা আমলকী ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং শুকনো আমলকীর দাম আরও বেশি। বিভিন্ন ভেষজ ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো পাইকারি হারে গ্রামাঞ্চল থেকে আমলকী সংগ্রহ করছে। বর্তমানে কেবল উপজেলার উত্তরাংশেই প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমলকীর বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের আমলকী বাগানমালিক সেবক পালের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার প্রায় ৫ বিঘা জমিতে ছোট-বড় ২৫০টি আমলকী গাছ রয়েছে। এ বছর বাম্পার ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আমলকী বিক্রি করেছেন তিনি। বাগানে থাকা অবশিষ্ট ফল আরও প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। তার মতে, সামান্য পরিচর্যা করলেই আমলকী থেকে চমৎকার ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে সরকারিভাবে সংরক্ষণ ও বিপণনের সুব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, “এ অঞ্চলে বর্তমানে আমলকীর চাষ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলটির উৎপাদন ও আবাদ বাড়াতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি। আমলকী গাছে রোগবালাইয়ের আক্রমণ সাধারণত কম হয় বিধায় বড় ধরনের কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি করা গেলে আমলকী জাতীয়ভাবে একটি রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হয়ে উঠতে পারে।”
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মোছা. আলেয়া খাতুন একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লৌহ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটি পরিপাকে বা হজমে অত্যন্ত সহায়ক, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ত্বক ও চুলের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী।




