থার্টিফার্স্ট নাইট। ইংরেজি নববর্ষের শেষ দিন। পরের দিন নতুন বছর। আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর।
খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে। তখন মেসোপটেমিয় সভ্যতার লোকেরা নতুন বছর উদযাপন শুরু করে। সেসময় এদিনটি পালন কর হতো ঘরোয়াভাবে। আড্ডা ও নাচ-গানের মাধ্যমে। মার্কিন বুদ্ধিজীবি নোয়াম চমস্কি থার্টি ফাস্ট নাইটকে বলেছেন ‘গরম মশলা’। তার মতে, ‘বছর বিদায় দিলেই নতুন বছর ভাল হয়ে যায় না । এটি কর্পেোরেট পুঁজির ব্যবসয়িক ধান্ধা। তাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালে রোমে নতুন বছর পালনের প্রচলন শুরু হয়। পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন। যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। এরপর থেকেই শুরু হয় থার্টি ফাস্ট উদযাপন। ধারণা করা হয়, ইতালিতে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে নিউ ইয়ার ইভ। কিন্তু যারা হিজরি ও বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করেন তারা এই থার্টি ফাস্ট সাধারণত পালন করেন না।
এখন ইউরোপ ও আমেরিকায় এটি অনেক জমকালোভাবে উদযাপন করা হয়। যেমন, ফ্রান্সের জনগণ আবহাওয়াকে নতুন বছরের ভবিষ্যদ্বাণী মনে করে। তাদের মতে, আগত বছরের প্রাপ্তি সম্পর্কে আভাস দেয় বাতাস। তাই তারা এদিনের আবহাওয়াকে দেখে বেশি।
বাতাস যদি পূর্ব দিকে বয়, তা হলে এ বছর ফল উৎপাদন ভালো হবে, পশ্চিমে বইলে মাছ উৎপাদন ভালো হবে, উত্তরে বইলে ফসল উৎপাদন ভালো হবে না বলে ধরে নেয় তারা।
লন্ডনে বিগ বেন-এ ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা নাগাদ সংকেত দিলেই টেমস নদীর আকাশ ছেয়ে যায় আতশবাজির ঝলকে।
স্কটল্যান্ডের নিউ ইয়ার ইভের নাম হোগমেনেই। এদিন এডিনবার্গের প্রিন্সেস স্ট্রিটে স্ট্রিট পার্টি হয়। গ্রিস ও সাইপ্রাসের নতুন বছর উদযাপনের মাত্রা একটু ভিন্ন। তারা বছর শুরুর রাতে বাতি নিভিয়ে ভাসিলাপিতা (বাসিল পাই) কাটে। এর ভেতর একটি কয়েন থাকে। যার ভাগ্যে এই কয়েনটি পড়ে তাকে সারা বছরের জন্য ভাগ্যবান বলে মনে করা হয়। সুইডেনে টি সেন্ট্রালে গান-বাজনা হয় ও সারারাত মানুষ গির্জায় যায়। রাত তিনটা পর্যন্ত
কানাডা, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডসে নতুন বছরের দিন মানুষ সমুদ্রসৈকত বা জলের দিকে ছুটে যায়।
নাইটক্লাব খোলা থাকে।
কখনো কখনোএই উদযাপনপানকে পোলার বিয়ার প্লাঞ্জেস বলে। বিভিন্ন সংগঠন দাতব্য সেবায় টাকা তুলতেও কখনো কখনো পোলার বিয়ার পাঞ্জেসের আয়োজন করে। আমেরিকায় টাইমস্কোয়ারে মুলত বড়ো অনুষ্ঠানটি হয়। মানুষজন রাতে জড়ো হয় ও আনন্দ করে। ৩১ ডিসেম্বর ও বছরের শুরুর দিন আয়োজন করা হয় বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, পার্টি ইত্যাদি। সূত্র এমটি ফ্লেভাল ও হ্যালো ম্যাগাজিন।
কানাডাতেও একই চিত্র। তবে উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো , পেরু , কোস্টারিকা এসব দেশগুলোতে এদিন ক্যাসিনোকে ঘিরে থাকে মুল আয়োজন। তারা মনে করেন জুয়ার ভাগ্য যার ভাল তারই নতুন বছর যাবে ভাল।