ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ পার্টির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ায় অধিকাংশ নাগরিকই তাদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাতে এই দুই শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
এতে বলা হয়, এই জরিপটি চালিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ (আইপিওআর) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা জরিপের জন্য উভয় শহরের ১,০০০ জনের বেশি বাসিন্দার মতামত সংগ্রহ করেছে। এ বছরের ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পিটিআইয়ের সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে দল এবং সরকারের নানা ভূমিকার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চেয়ে জরিপটি পরিচালিত করেছে আইপিওআর নামের প্রতিষ্ঠানটি।
জরিপে উঠে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পিটিআইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে এ দুই শহরের মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ। তারা যেকোনো অবস্থাতেই দলটির কর্মসূচিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ৮ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
রাজনৈতিক দলটির কর্মসূচিকে কেন্দ্র সরকারের কারফিউ জারি করার সিদ্ধান্ত সঠিক কি না? এ প্রশ্নের জবাবে সরকারের ভূমিকাকে অকেজো বলে উল্লেখ করেছেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করছেন সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আর ১০ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।
দুই শহরে বিক্ষোভ এবং কারফিউ জারির ফলে নিজেদের দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের কথা জানিয়েছেন ৮২ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ বলেছে উদ্ভূত পরিস্থিতি তাদের কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটায়নি। আর উত্তর দেয়নি ১ শতাংশ মানুষ।
এছাড়া এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডির ব্যবসায়িকদের ওপর প্রভাব কেমন ছিল, সে প্রশ্নে ৭৪ শতাংশ বলেছেন- কারফিউ এবং বিক্ষোভের ফলে তাদের বাণিজ্য বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন তারা কোনো ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হননি। আর উত্তর দেয়নি ২ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও সমাবেশ দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ৬৬ শতাংশ মানুষ একমত হলেও ২৬ শতাংশ বলেছেন যে, রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং সমাবেশ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ নয়। আর ৮ শতাংশ এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।
প্রায় ৫৩ শতাংশ নাগরিক রাজনৈতিক সংকটের ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। আর পিটিআইকে দায়ী করেছেন ১৮ শতাংশ মানুষ। অন্যান্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ১২ শতাংশ মানুষ। ১৭ শতাংশ এই প্রশ্নে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির জরিপে অংশ নেয়া ৭৩ শতাংশ মানুষ যেকোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেন। অন্যদিকে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ না হওয়ার পক্ষে ২৪ শতাংশ মানুষ। আর বিক্ষোভ অশান্তিপূর্ণ হলেও তা সমর্থন করেন মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ।