১৩ই জুন, ২০২৬
Picture of অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল:

ময়মনসিংহে যাত্রীভর্তি ট্রেন রেখে পালিয়েছে চালক, অবরুদ্ধ স্টেশন সুপার

যাত্রী নিয়ে নেত্রকোনা মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে রেখে পালিয়েছেন চালক। এতে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টকে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন।

রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধের মধ্যে সকাল ৮টায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসে হাওর এক্সপ্রেস। ট্রেনটি সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে পালিয়ে যান চালক।

এতে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের পাঁচ শতাধিক যাত্রী। পরে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট নাজমুল হক খানকে অবরুদ্ধ করেন।

সুপারিনটেনডেন্ট নাজমুল হক খান বলেন, “যাত্রীরা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, আমি কোনো উপায় খোঁজে পাচ্ছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখছি কী করা যায়। চালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছি না। সে আমাকে ফাঁসিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।”

হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জুবায়ের আহমেদ বলেন, “অসুস্থ ফুপাকে নিয়ে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু ট্রেনটি মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছালেও এখন ঢাকার উদ্দেশ্য যাচ্ছে না। ট্রেনটি রেখে নাকি চালক পালিয়েছে, তাই সবাই স্টেশন সুপারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। খুব বিপাকের মধ্যে পড়েছি।”

আরেক যাত্রী হাসানুল হক বলেন, “ঢাকা যাবে না ভালো কথা, তাহলে মোহনগঞ্জ থেকে কেন ছাড়ল? কেন টিকিটের টাকাও পাচ্ছি না। তাই স্টেশন সুপারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি। সমাধান না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়া হবে না।”

মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক দেওয়া, নিয়োগপত্রের দুই শর্ত প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এতে সোমবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রেলপথ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছে, ট্রেনের যাত্রা বাতিল হলে যাত্রীদের টিকেট ফেরত দেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, “বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের বুঝানোর চেষ্টা করছি। ট্রেনটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী রয়েছে। তাদের বিকল্প পথে ঢাকায় পাঠানোর আলোচনা হচ্ছে।”

মন্তব্য করুন