২০শে এপ্রিল, ২০২৬

মহম্মদপুরে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী/নাজির মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ লুটপাট, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ২০১৪ সালে মহম্মদপুর উপজেলায় বদলি হয়ে আসেন এবং প্রায় ৯ বছর ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় মহম্মদপুরে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। গ্রাম পুলিশ নিয়োগে বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ, এলজিইডির কাজের ফাইল আটকে কমিশন আদায়, হাট-বাজার ও জলমহল ইজারায় অনিয়ম, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ—এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কাজ না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সেলাই মেশিন, ফুটবল ও কৃষি সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রকল্প দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলনের পর কোনো মালামাল সরবরাহ করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ বিক্রির প্রায় ১৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের অর্থ—যেমন আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য ব্যয়ের টাকা—বছরের শুরুতেই উত্তোলন করে কোনো কাজ ছাড়াই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা। মাগুরা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার পরিবারের নামে জমি ও বহুতল ভবন নির্মাণের তথ্য স্থানীয়দের মাধ্যমে উঠে এসেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন