সজীব আকবর, সিনিয়র প্রতিবেদক:
অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসিফুর রহমান এখন শতকোটি টাকার মালিক। আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সাথে হাতমিলিয়ে নামে-বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শেখ হাসিনার জামানায় আসিফুর রহমানের প্রচ্ছয়ে ছয় থেকে সাতজন প্রভাবশালী ঠিকাদার গ্রুপের দাপটে সাধারণ ঠিকাদাররা ছিলেন অতিষ্ঠ, কোনঠাসা। নানা উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ার তথ্য ফাঁস, সমঝোতার নামে প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়ে উঠেছিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয়।

তিনি দাপটের সঙ্গে এখনো দপ্তর চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘রেট শিডিউল’ ফাঁস করা থেকে শুরু করে নিম্নমানের কাজের বিল পরিশোধ, কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের কমিশন বুঝে নেওয়া হয় পায়-টু-পায়। এসব ছাড়াও কাজ শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত অগ্রিম বিল পরিশোধেরও অভিযোগ রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এত সব অপকর্মের নীরব দর্শক ছিলেন এ অফিসে দায়িত্ব পালনকারী সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে বঞ্চিত ঠিকাদার শ্রেণী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অফিস স্টাফ বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করতে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের পিছনে তিনি ব্যায় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

এছাড়া শেখ হাসিনার টানা শাসনামলে আসিফুর রহমান তার কর্মস্থলগুলোতে নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও শেখ হাসিনার কাছের লোক বলে পরিচয় দিয়ে প্রতিটি অফিসে ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেছিলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
বেশকিছু বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলের ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার আমাদের সাথে চরম বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণ করে হয়ে উঠেছিলেন আওয়ামীলীগের প্রিয়জন। এলা্কার সচেতন মহল বলেন, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাাওয়ার পর নির্বাহী স্যার সপ্তাহ খানিক চুপচাপ থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারো স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের প্রভাব খাটিয়ে সহকারী প্রকৌশলীর সাথে যোগসাজশে এসব অনৈতিক কাজ তিনি করে গেছেন অবলিলায়।

এলাকার সচেতন মহল এবং বঞ্চিত ঠিকাদারদের অভিযোগ মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা অধিদপ্তরের অধিকাংশ নির্মাণই মানহীন এবং মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। ভূমিকম্প প্রবণ বাংলাদেশে এসব অবকাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
সোশ্যাল মিডায়ায় আসিফ রহমান মুরাদ নাম ধারণ করে ধুরন্দর আসিফুর রহমান ফেসবুকে নিজেকে উল্লেখ করেছেন ডিজিটাল ক্রিয়েটর হিসেবে এটা শুধু প্রতারণায় নয়, সত্যর অপলাপ।
শতকোটি টাকার মালিক আসিফুর রহমান কীভাবে হলেন তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কঠোর হস্তক্ষেপসহ শিক্ষা উদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী ও বঞ্চিত ঠিকাদার শ্রেণী।।





