রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের মেট্রোপলিটন হাজীরহাট থানাধীন নজিরহাট বাজারে জমিদাতা মোতয়াল্লিকে অপসারণ করে বেআইনিভাবে মসজিদের সম্পত্তিতে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোতয়াল্লি কাজ বন্ধের জন্য বিজ্ঞ আদালতে নিষেধাজ্ঞার ১৪৪/৪৫ ধারামতে মামলা দায়ের করলেও বর্তমান মসজিদ কমিটি আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর)
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করে প্রতিপক্ষকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করে পরবর্তীতে আবার চালু করে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, নজিরহাটে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ এর মোতয়াল্লি আরাফাত হোসেন জমিদাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ মোতয়াল্লির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ১০ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ ব্যতীত মোতয়াল্লি আরাফাতকে অপসারণ করে এবং বেআইনিভাবে মসজিদের সম্পত্তিতে মার্কেট নির্মাণ শুরু করে আনিচুর রহমান গং। এঘটনায় মোতয়াল্লি আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে ২৭ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে নিষেধাজ্ঞা জারি চেয়ে মামলা করেন।বিজ্ঞ আদালত পরের দিন ২৮ অক্টোবর কাজ বন্ধের নির্দেশ জারি করে নোটিশ প্রদান করেন।
এবিষয়ে মোঃ আরাফাত হোসেন জানান, ২০১৬ সালে আমার পিতা মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার সূত্রে শহরউদ্দিন আহমেদ মিয়া সাহেবের বাটাস্থিত ওয়াকফ স্টেটের মোতয়াল্লি নিযুক্ত হই। ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সেক্রেটারি ছিলেন মামুনুর রহমান।তারপর থেকে ওয়াকফ স্টেটের ২৮ শতক জমি দেখাশোনা করে আসছিলাম।হঠাৎ গত ১০ অক্টোবর জানতে পারি আমাকে অপসারণ করে সহরউদ্দিন আহাম্মদ মিয়া সাহেবের বাটাস্থিত জামে মসজিদ বরাবর ২৮ শতক জমি ওয়াকফ করলেও নাম পরিবর্তন করে রাধাকৃষ্ণপুর নজিরেরহাট জামে মসজিদের সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান করে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে।
এছাড়াও স্থানীয় আলী আকবের ছেলে আল মামুনুল ইসলাম,বাবলু মিয়া,আবু সিদ্দিক জানান, জমি দাতার ওয়ারিশ আরাফাতকে অপসারণ করে বিভিন্ন লোকজনকে ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি অবৈধভাবে ৯৯ বছরের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে লিজ প্রদানের মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণ করার অনুমতি দেয় আনিচুর ও মোস্তাফিজার রহমান। এরই ধারাবাহিকতায়
আরাফাত বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ নিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষগণ আদেশ উপেক্ষা করে মার্কেট নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছে। এবিষয়ে আমরা মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার্থে অন্তবর্তীকালীন সরকারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তবে এসংক্রান্ত অভিযোগ যুক্তিহীন আখ্যায়িত করে
বর্তমান মোতয়াল্লি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যে আরাফাত হোসেন কখনো মোতয়াল্লি ছিলেন না। তবে অতিরিক্ত মেজিস্ট্রেট আদালতে আরাফাত এর দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে জানতেন না । আজকে পুলিশ এসে আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিয়ে ডাকছেন থানায়।
রংপুর মেট্রোপলিটনের হাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ১৪৪/১৪৫/ ধারায় হওয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করার কথা বলে উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলছি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।