
শেরপুর প্রতিনিধি : আমিরুল ইসলাম
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে আলোচিত স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষকের মৃত্যুদন্ডের দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুমা উপজেলার পলাশীকুড়া স্কুল মোড়ে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় ফেরিওয়ালা গ্রেপ্তারকৃত ইসলাম উদ্দিন কর্তৃক ৪র্থ শ্রেনীর এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষনের অপরাধে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী দরবেশ আলীর সভাপতিত্বে ও জামিয়া আরাবিয়া ফাতেমা জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা ফখরুল ইসলামের উপস্থাপনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ, শিক্ষক আহমদ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুফতি মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, ভুক্তভোগীর পক্ষে হাসমত আলী প্রমুখ।
মানববন্ধনের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী আব্দুল বাসেত। পরে চিকিৎসাধীন ধর্ষিত শিক্ষার্থীর সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম মাওলানা ফরহাদ হোসেন।
মানববন্ধনে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ভিকটিমের চিকিৎসার জন্য উপস্থিত জনতা আর্থিক সহযোগীতা করেন। পরে ধর্ষক ইসলাম উদ্দিনের কুশপুত্তলিকা দাহ ও গণ স্বাক্ষর গ্রহণ করে মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য- গত সোমবার ৫ জানুয়ারি উপজেলার পলাশীকুড়া গ্রামে স্থানীয় ফেরিওয়ালা ইসলাম উদ্দিন ফ্রি কসমেটিকস পন্য ও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একই এলাকার ৯ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভিকটিম মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ী ফিরলে ঘটনা জানাজানির পর দ্রুত তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মারাত্মক আহত শিশুটি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় পরদিন ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক ইসলাম উদ্দিনকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এব্যাপারে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে নালিতাবাড়ীর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন।