
স্টাফ রিপোর্টার:- ফয়সাল হায়দার
‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরার মহম্মদপুরে অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া ভোকেসিং প্রোগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তার বক্তব্যকে ঘিরে মহম্মদপুরসহ পুরো মাগুরা জেলায় ব্যাপক আলোচনা-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহম্মদপুরের সর্বস্তরের জনগণ, সুধীসমাজ, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, মহম্মদপুর ও মাগুরার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে মহম্মদপুর ও স্থানীয় প্রেস ক্লাবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভিন্ন বিতর্ক, ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেগুলোকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ যেন অন্যায়ভাবে কারও পেছনে না লাগে। দলের ভেতরে কোনো ধরনের উশৃঙ্খলতা বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।” তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মনোযোগ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা জাতির বিবেকের প্রতিফলন। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীন ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তার মন্ত্রিত্বকালের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে যখন বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তখনও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সততা ও স্বচ্ছতার এই অবস্থানই তাকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বয়সের ভারকে উপেক্ষা করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নিতাই রায় চৌধুরী। স্থানীয়দের মতে, তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং মহম্মদপুরবাসীর একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী অবস্থান এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা তরুণ সমাজের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের মাধ্যমে মহম্মদপুরকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ উপজেলায় রূপান্তরের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়। আয়োজনে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নিতাই রায় চৌধুরীর এই সময়োপযোগী বক্তব্য মহম্মদপুরের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।